অর্থমূল্য বিবেচনায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ পাঁচ বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর পোশাক আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বাজারে চীনের পর দ্বিতীয় বৃহৎ পোশাক সরবরাহকারী হলো বাংলাদেশ। তবে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ পাঁচ বছরে ইইউর পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধিতে কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
ইইউর পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্ববাজার থেকে ইইউ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো পোশাক আমদানির অর্থমূল্য ছিল ৬ হাজার ৮৪৮ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৫৫৫ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ইউরোয়। এ হিসাবে পাঁচ বছরে আমদানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
পোশাক আমদানিতে ইউরোপের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে প্রথম থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীন, বাংলাদেশ ও তুরস্ক। ২০২৪ সালেও এ তিন দেশ ইইউর মোট পোশাক আমদানির ৬০ দশমিক ৩৭ শতাংশ সরবরাহ করেছে। এ পাঁচ বছরে পোশাক আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে চীন থেকে ১৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও বাংলাদেশ থেকে ৪৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এছাড়া তুরস্ক থেকে হয়েছে ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
ইইউর পোশাক আমদানির প্রধান ১০ উৎসের মধ্যে চতুর্থ থেকে দশম অবস্থানে থাকা দেশগুলো হলো ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়া। আলোচ্য পঁাচ বছরে এ দেশগুলো থেকে ইইউর পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধি ভারত থেকে হয়েছে ৪১ দশমিক ৭৭ ও ভিয়েতনাম থেকে ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এছাড়া কম্বোডিয়া থেকে পোশাক আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ এ পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধি কম্বোডিয়া ও পাকিস্তানের চেয়েও অনেক কম।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, মরক্কো, শ্রীলংকা ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ইইউর পোশাক আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৩৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২২ দশমিক ৮১ এবং ২ দশমিক ২২ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চীন থেকে ইইউর পোশাক আমদানির অর্থমূল্য ছিল ২ হাজার ৪০৬ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার ইউরো। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ৮২৭ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার ইউরোর পোশাক।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বণিক বার্তা বলেন, ‘২০২০ সালের পর থেকে বাংলাদেশ আবারো উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। গত চার বছরে দেশটির পোশাক রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা ইইউভুক্ত দেশগুলোর সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হার ২৪ দশমিক ৯২ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।’